অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাখ্যা দিলো মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তি বাতিলের কারণ
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তি বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা অন্তর্বর্তী সরকারের

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাখ্যা: মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তি বাতিলের পেছনের কারণ

নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আবদুর রশিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল নিয়ে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিভিন্ন মাধ্যমে অপতথ্য ও অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে।

পদত্যাগের আবেদন ও নির্বাচনকালীন ধারাবাহিকতা

বার্তায় বলা হয়, 'প্রকৃতপক্ষে, ব্যক্তিগত কারণে তিনি (ড. শেখ আবদুর রশিদ) নির্বাচনের কিছুদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টার নিকট দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে নির্বাচন সন্নিকটে চলে আসায় মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে তিনি নির্বাচনকাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে সম্মত হন।'

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর গত শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এ পদে নতুন দায়িত্ব পান প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, যিনি নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন।

শেখ আবদুর রশিদের পদত্যাগ ও নিয়োগের ইতিহাস

শেখ আবদুর রশিদ গতকালই প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু নির্বাচনের কারণে গৃহীত হয়নি এবং এখন আদেশ হয়েছে। জনপ্রশাসনের এই কর্মকর্তা কয়েক বছর আগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে গিয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে তাঁকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ওই বছরের ১৪ অক্টোবর দুই বছরের মেয়াদে তাঁকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হয়েছিল, কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।

নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়েছে বিএনপি, এবং আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। এই পরিবর্তনের মধ্যেই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ঘটছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই ব্যাখ্যা প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ব্যক্তিগত কারণ ও নির্বাচনকালীন প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।