অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ তথ্য প্রকাশ, পরিবেশ উপদেষ্টার সম্পদ কমেছে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ তথ্য প্রকাশ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ তথ্য প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের তথ্য প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়েছে। এই প্রকাশনায় বিভিন্ন উপদেষ্টাদের আর্থিক ও নন-ফিন্যান্সিয়াল সম্পদের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে, যা সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সম্পদ কমেছে

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সম্পদের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুনের তুলনায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তার প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তার আর্থিক সম্পদ ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ৯৪৮ টাকা এবং নন-ফিন্যান্সিয়াল সম্পদ ছিল ৩১ লাখ ৪ হাজার ১০৭ টাকা, যা দেশের বাইরে শূন্য হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে করে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তার আর্থিক সম্পদ কমে হয়েছে ৮১ লাখ ৬৮ হাজার ৮১৭ টাকা, নন-ফিন্যান্সিয়াল সম্পদ অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের বাইরে সম্পদের হিসাব শূন্য উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকা। এছাড়া ২০২৪ সালে তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় ছিল ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫২ টাকা, যা কমে হয়েছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮৭ টাকা।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের বিদেশে দায়

সম্পদের তথ্যে আরও দেখা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের আর্থিক সম্পদ ২০২৪ সালে ছিল ২০ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ২২ লাখ টাকা। তার নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদের হিসাব দেওয়া হয়নি। তবে বিদেশে তার প্রায় ২২ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে, যা মার্কিন ডলারে আগের মতোই আছে। একইসঙ্গে ২০২৪ সালে তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় ছিল ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা ২০২৫ সালে কমে হয়েছে ১২ লাখ ডলার।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর তথ্য

মন্ত্রিপরিষদের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী সরকারের কাছ থেকে কোনও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেননি। এই তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

এই সম্পদ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের আর্থিক অবস্থার একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যতে জবাবদিহিতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।