মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সফরে রাষ্ট্রাচার নির্দেশনা জারি
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের (বর্তমানে উপমন্ত্রী নেই) বিদেশযাত্রা, দেশে ফেরার সময় এবং দেশের ভেতরে সফরকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার (প্রটোকল) বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। ১৬ এপ্রিল তারিখে প্রকাশিত এই নির্দেশনায় মোট ১১ ধরনের নির্দেশনা এবং চারটি সাধারণ নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে।
১১ দফা নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো
নির্দেশনায় উল্লেখিত ১১ দফা নির্দেশনা নিম্নরূপ:
- মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের বিদেশ গমন ও দেশে ফেরার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।
- দেশের ভেতরে সফরকালে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ঢাকা ত্যাগ ও ফেরার সময় একান্ত সচিবেরা উপস্থিত থাকবেন, তাদের অভিপ্রায় অনুযায়ী।
- জেলা সদরে মন্ত্রীদের আগমন ও বিদায়ের স্থানে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন।
- জেলা সদরে উপস্থিত থাকার জন্য জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের নিজের সরকারি সফর বাতিল বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না; এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করবেন। তবে মন্ত্রীরা ইচ্ছা প্রকাশ করলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার তাঁর সরকারি সফরসূচি বাতিল করবেন।
- উপজেলা সদর বা উপজেলার অন্য কোনো স্থানে মন্ত্রীদের সফরকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। আবশ্যক না হলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতির প্রয়োজন নেই।
- মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও যশোরের জেলা প্রশাসক বিমানবন্দর বা রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। যশোর ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বা মহানগর পুলিশ কমিশনারের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
- কোনো জেলা বা উপজেলায় আগমন বা প্রস্থানের সময় আশপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হলে ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
- বিভাগীয় কমিশনার সদর দপ্তরে উপস্থিত থাকলে মন্ত্রীদের আগমনের পর তিনি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।
- মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
- রেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট রুটের সব পুলিশ স্টেশন বা ফাঁড়িকে অবহিত করবেন।
- যে স্টেশন থেকে অবতরণ এবং ট্রেনে পুনরায় আরোহণ করবেন অথবা কোনো জংশনে ট্রেন বদলের প্রয়োজন হবে, সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক বা উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া রেলযোগে চট্টগ্রামে যাওয়া ও আসার সময় চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।
সাধারণ চারটি নির্দেশনা
নির্দেশনায় আরও চারটি সাধারণ নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে:
- মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে যথাসময়ে পাঠাতে হবে এবং সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তা অবহিত করতে হবে।
- সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউস ছাড়া নিজ বাড়ি কিংবা অন্যত্র অবস্থানের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রাচার–সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
- সফরসূচি প্রণয়নের সময় তা সরকারি, না ব্যক্তিগত তা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে হবে।
- সরকারি সফরের সময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যক্তিগত সফরের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলে এ–সংক্রান্ত সেবার মূল্য পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একান্ত সচিব বা সহকারী একান্ত সচিবেরা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
এই নির্দেশনা জারির মাধ্যমে সরকারি সফরগুলোর রাষ্ট্রাচার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্পষ্ট গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।



