অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) সরকার জানায়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরও কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
জরিমানা দ্বিগুণ ও ই-সেফটি কমিশনারের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সর্বোচ্চ জরিমানা ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার) করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-সেফটি কমিশনারের তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রমাণ দিতে বাধ্য করতে পারবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে তদন্ত
সরকার জানিয়েছে, ই-সেফটি কমিশনার সক্রিয়ভাবে পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন তদন্ত করছে। এগুলো হলো মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক, গুগলের ইউটিউব, স্ন্যাপের স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও শিশুদের উপস্থিতি কমছে না
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের পর থেকে এ বিষয়ে বৈশ্বিক আলোচনা ও অগ্রগতি দেখে আমি উৎসাহিত; কিন্তু এটা স্পষ্ট যে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইন মানতে যথেষ্ট কাজ করছে না। এখনো অনেক শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের ৫০ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে বা বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বয়স যাচাইয়ের জন্য সেলফির মতো যে ব্যবস্থা চালু করেছে, তা শিশুরা সহজে ফাঁকি দিতে পারছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বয়স প্রমাণ করতেও বলা হয়নি।
গবেষণায় নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
এ সপ্তাহে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত ৪০৮ জন কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরও ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয়দের ৮৫ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের দুই-তৃতীয়াংশ নিজেদের বয়স ১৬ বছরের বেশি বলে উল্লেখ করেছে। অথবা এমন একটি সেলফি আপলোড করে অনলাইনে থাকতে পেরেছে, যা প্ল্যাটফর্মগুলো ১৬ বছরের বেশি বয়সী হিসেবে গ্রহণ করেছে।
শিল্প সংগঠনের বক্তব্য
এপ্রিল মাসে প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি শিল্প সংগঠন জানায়, বয়স যাচাই প্রযুক্তিতে সমস্যা নেই। সমস্যা হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বিদ্যমান প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করছে না।
যোগাযোগমন্ত্রীর মন্তব্য
অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী অ্যানিকা ওয়েলস এক বিবৃতিতে বলেন, ই-সেফটি কমিশনারের কাছ থেকে পাওয়া নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যে স্পষ্ট হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পুরোনো কৌশল অনুসরণ করছে এবং দায় এড়াতে কেবল ন্যূনতম কাজটুকু করছে।
প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তন
প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তনের মাধ্যমে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির কাছ থেকে নয়, বয়স যাচাই সেবা প্রদানকারী বা অ্যাপ স্টোর পরিচালনাকারী তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকেও তথ্য চাইতে পারবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোর দাবির সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে।
আইন সংশোধনের সময়সীমা
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের একজন মুখপাত্র জানান, আইন সংশোধনের প্রস্তাব কবে পার্লামেন্টে তোলা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।
রেডিটের মামলা
অনলাইনে আলোচনার প্ল্যাটফর্ম রেডিট অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালতে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে। তাদের দাবি, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তবে সরকার জানিয়েছে, আদালতে তারা এই মামলার বিরুদ্ধে লড়বে।



