মানিকগঞ্জে গ্রাম্য সালিশে মারধরের শিকার তরুণীর আত্মহত্যা
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় একটি গ্রাম্য সালিশে প্রকাশ্যে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর ও লাঞ্ছিত হওয়ার পর এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর কাশাদহ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
জানা গেছে, ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণী একটি তালা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলে ১৭ এপ্রিল রাতে তরুণীর বাবার বাড়িতে একটি গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। স্থানীয় মাতবর আজিজ খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তাকে এবং এক যুবককে সবার সামনে মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সালিশে কিল-ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করে দুজনের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার একটি ভিডিওচিত্রও রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পরদিন সকালে তরুণী কর্মস্থলে গিয়ে বিকালে বাড়ি ফিরে আসেন এবং সন্ধ্যার দিকে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন।
পরিবারের বক্তব্য ও এলাকার প্রতিক্রিয়া
তরুণীর স্বজনদের দাবি, প্রকাশ্যে অপমান ও শারীরিক নির্যাতনের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন। মেয়েটির মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার সামনে আমার মেয়েকে মারধর করা হয়েছে। এই অপমান সে সহ্য করতে পারেনি। আমি এর বিচার চাই।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সালিশে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। ঘটনার পর কয়েকজন অভিযুক্ত গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশের তদন্ত ও এলাকাবাসীর দাবি
শিবালয় থানার ওসি (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।’
এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন।



