হাটহাজারীতে কৃষকদল নেতাকে ডাম্পট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এক আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জের ধরে কৃষকদল নেতা মো. ফয়সাল (৩২) কে ডাম্পট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক সংলগ্ন হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাত ১২ টার দিকে উত্তর জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত ফয়সাল মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন এবং উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পিতা উক্ত ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। ফয়সাল ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
আর্থিক বিরোধের পটভূমি
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদল নেতা ফয়সাল একই এলাকার জুয়েল নামে এক ব্যক্তির কাছে ১ লাখ টাকা পাওনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য থানায় একাধিকবার বৈঠক হলেও জুয়েল সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেননি, সর্বশেষ প্রায় ৩০ হাজার টাকা পাওনা ছিল।
নিহতের ছোট ভাই মো. রিয়াদ গণমাধ্যম কর্মীদের অভিযোগ করে বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ফয়সালকে পাওনা টাকা পরিশোধ করার কথা বলে সরকার হাট বাজারে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্ত জুয়েল আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একটি ডাম্পট্রাক চালিয়ে ফয়সালকে চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে চাপা দিয়ে রাখেন এবং পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
উদ্ধার ও মৃত্যু নিশ্চিতকরণ
পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ইমরান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন ময়নাতদন্তের জন্য।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও দাবি
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকিসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করেন। তারা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ার গং এর ইশারায় জুয়েল এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। আনোয়ার গং এর বিরুদ্ধে এলাকায় মাটিকাটা, দখলবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে এবং গত ৬ মাস আগে ২০২৫ সালে তিনি এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে গেছে।
পুলিশি তদন্ত ও মামলা
হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগ এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তাই, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।



