কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা মামলায় জামায়াতের জড়িত না থাকার দাবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত দরবার প্রধান ‘পীর’ আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জড়িত নয় বলে দাবি করেছে দলটি। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের জামায়াত কার্যালয়ে দলের দৌলতপুর শাখা একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি উত্থাপন করে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিন বলেন, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ খাজা আহমেদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খাজা আহমেদ এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
বেলাল উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, খাজা আহমেদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তাকে মামলার আসামি করিয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং জামায়াত যেকোনো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করে বলে দাবি করেন।
বিএনপির নেতাদের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাওয়ার অভিযোগ
জামায়াত নেতা আরও বলেন, হামলার সময়কার ভিডিও ফুটেজে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের কয়েকজনকে দেখা গেছে, যা ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের জড়িত না থাকার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের মামলার আওতায় আনার দাবি জানান।
ফ্যাসিবাদ আমলে একইভাবে দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতো বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধারা ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক, দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান, কুষ্টিয়া শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান পলাশসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পীর হত্যা ঘটনার পটভূমি
প্রসঙ্গত, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত দরবার শরিফে বিক্ষুব্ধ কিছু মানুষ ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় দরবার প্রধান আব্দুর রহমান নিহত হন।
এ ঘটনায় সোমবার রাত ১০টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পীর আব্দুর রহমান ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে ছিলেন। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



