ভারতের আসামে সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলা: সিপিজে ও দিল্লি প্রেসক্লাবের উদ্বেগ প্রকাশ
ভারতের আসাম রাজ্যে একটি সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং দিল্লির প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়া। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক 'অসমীয়া প্রতিদিন'-এর কার্যালয়ে এই হামলা সংঘটিত হয়, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
হামলার ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি
১০ এপ্রিল ভোরে, আসামের উত্তর লখিমপুর জেলায় অবস্থিত 'অসমীয়া প্রতিদিন'-এর দপ্তরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা পাথর ছুড়ে জানালার কাচ ভেঙে দেয়। এই হামলায় সংবাদপত্রের বার্তাকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সৌভাগ্যবশত কোনো কর্মী আহত হননি। ঘটনার পর, পত্রিকার মূল সংস্থা 'প্রতিদিন মিডিয়া নেটওয়ার্ক' জানায় যে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা পত্রিকাটি সম্পর্কে সমালোচনামূলক মন্তব্যের পরপরই এই হামলা সংঘটিত হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সমালোচনা
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, আসামে বিধানসভা নির্বাচন চলাকালে 'অসমীয়া প্রতিদিন' ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা দলের পছন্দ হয়নি। ৯ এপ্রিল নির্বাচনের সময়, উত্তর আসামে সংবাদপত্রটির প্রচুর কপি পোড়ানো হয় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, হামলার প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাংবাদিকদের বলেন যে, তাঁর সরকার আবার ক্ষমতায় এলে জয়ন্ত বড়ুয়ার মতো সংবাদব্যক্তিত্বদের 'রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ধ্বংস' করা হবে। জয়ন্ত বড়ুয়া 'অসমীয়া প্রতিদিন'-এর সম্পাদক এবং প্রতিদিন মিডিয়া নেটওয়ার্কের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার বুধবার এই হামলাকে 'আসাম সরকারের উচ্চ স্তর থেকে আসা বিপজ্জনক আলংকারিক বক্তব্যেরই বহিঃপ্রকাশ' বলে মন্তব্য করেন। তিনি অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্তের দাবি জানান। অন্যদিকে, ১৩ এপ্রিল দিল্লি প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়া একটি বিবৃতিতে জানায় যে, মুখ্যমন্ত্রী একটি সাংবিধানিক পদে আসীন এবং তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে এই ঘটনার জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য। তারা ডিজিটাল মাধ্যমে সাংবাদিকদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে।
তদন্ত ও বর্তমান অবস্থা
লখিমপুর জেলা পুলিশ এই হামলার ঘটনায় মামলা করেছে, তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। লখিমপুরের পুলিশ সুপার এবং মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। এই ঘটনা ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক চাপের মুখে সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।



