গাইবান্ধায় সাঁওতাল নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাঁওতাল আদিবাসীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের বাগদা বাজারে এই সমাবেশে সাঁওতালরা হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানায়।
হামলার ঘটনা ও প্রতিবাদ
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল বাগদা এলাকায় সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি ফেরত এবং তিন সাঁওতাল হত্যার প্রতিবাদে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সমাবেশে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে চারজন সাঁওতাল নারীসহ পাঁচজন সাঁওতাল নেতাকে আহত করে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সাঁওতালরা গোবিন্দগঞ্জ পুলিশের কাছে মামলা দায়ের করে। কিন্তু থানায় মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় এবং পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
বিক্ষোভ সমাবেশের বিবরণ
বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা হামলাকারী ভূমিদস্যুদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। বক্তব্য রাখেন আদিবাসী নেতা ড. ফিলিমন বাসকে, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা খোকন সুইটেন মুম, সাঁওতাল নেতা রাফায়েল হাসদা, ব্রিটিশ সরেন, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু, সাঁওতাল নেত্রী অঞ্জলী মুর্মু, স্যাম বালা এবং দীপন দেওয়ান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, "পুলিশের অবহেলা ও গোবিন্দগঞ্জ থানায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়া এবং দোষীদের গ্রেফতার না করায় আমরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছি। এ অবস্থায় আমরা আর বসে থাকতে পারি না। আমরা দেশের নাগরিক, অধিকার আদায়ে ও ভূমিদস্যুদের গ্রেফতার দাবিতে আগামী সোমবার গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের অফিস ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।"
ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
বিক্ষোভ সমাবেশে সাঁওতালরা ঘোষণা করেন যে, হামলাকারীদের গ্রেফতার না হলে তারা বৃহত্তর কর্মসূচি দেবে। আগামী সোমবার গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের অফিস ও থানা ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ আদিবাসী অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের সূচনা করতে পারে।
গাইবান্ধায় এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং পুলিশি ব্যবস্থার সমালোচনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আদিবাসী নেতারা সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন যে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।



