টাঙ্গাইলে মাদকের টাকার জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী ও তার বাবা অপরাধী
টাঙ্গাইলে মাদকের টাকায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামী-বাবা অপরাধী

টাঙ্গাইলে মাদকের টাকার জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

টাঙ্গাইল শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড় এলাকার হরিজন পল্লিতে এক নৃশংস ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাদকের টাকার জন্য স্ত্রী নাজমা হরিজনকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী বুলু হরিজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শনিবার সকালে ঘটলেও রোববার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে হরিজন পল্লিতে বুলু হরিজন মাদকের টাকার জন্য তার স্ত্রী নাজমা হরিজনের উপর চাপ প্রয়োগ করেন। নাজমা টাকা দিতে অস্বীকার করলে উভয়ের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে বুলু হরিজন নাজমার শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

স্থানীয়রা চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাজমাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমা হরিজন মারা যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের বক্তব্য ও পূর্বের ঘটনা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হরিজন সম্প্রদায়ের ব্যক্তি বলেন, "ইতোপূর্বেও মাদকের টাকার জন্য আমাদের পল্লিতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছিল। দুর্ভাগ্যবশত সেটি ধামাচাপা দেওয়া হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "এ ঘটনায় বুলু হরিজন যেমন অপরাধী, তার বাবাও তেমন অপরাধী। কারণ বুলুর বাবা বিষয়টি দেখার পরও এগিয়ে যাননি বা হস্তক্ষেপ করেননি।"

পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জী জানান, তারা শাহাবাগ থানার বেতার বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদ জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, "লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে প্রাপ্ত অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনাটি তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, মাদক সমস্যা ও সামাজিক অবহেলার কারণে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

এ ঘটনায় টাঙ্গাইল শহরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, মাদক বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা এবং হরিজন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।