গাজীপুরে স্ত্রী হত্যার পর স্বামীর নিষ্ঠুর ফোন: 'মেরে ফেলেছি, বাবাকে খবর দাও'
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী প্রতিবেশী এক নারীকে ফোন করে নিহতের বাবাকে লাশ নিয়ে যেতে বলেছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়াইদেরচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঝর্ণা আক্তার (১৬) নামের গৃহবধূকে হত্যার পর তার স্বামী অপু আহমেদ (পেশায় বাসচালক) প্রতিবেশী তানিয়া নামের এক নারীর মোবাইলে ফোন করেন। ফোনে অপু বলেন, 'ঝর্ণাকে মেরে ফেলেছি। তার বাবাকে একটু খবর দাও, লাশ নিয়ে যেতে।' এই ফোন পেয়ে তানিয়া বিষয়টি স্থানীয়দের জানান, যা পরে পুলিশকে সতর্ক করে।
শ্রীপুর থানা পুলিশ মাসুদ রানার বাড়ির দোতলা ঘরের তালা ভেঙে ঝর্ণার লাশ উদ্ধার করে। ঘরের ভেতর মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেছে, এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। স্বামী অপু আহমেদ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
নিহতের পরিবারের বক্তব্য
ঝর্ণার বাবা মো. হামিদুল ইসলাম জানান, দুই বছর আগে পরিবারের অজান্তে তার মেয়ে অপু আহমেদকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ঝর্ণা পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। তিনি বলেন, 'রাত ১০টার দিকে পাশের এক দোকানি জানান, আপনার মেয়ে ঝর্ণা মারা গেছে। খবর শুনে দৌড়ে ভাড়া বাসায় আসি। এসে দেখি ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।'
বাড়ির মালিক ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
বাড়ির মালিক মাসুদ রানা বলেন, 'বেশির ভাগ সময় তাদের ঘরের দরজা বন্ধ থাকত। দরজা খোলার পর দেখা যায়, ঘরটিতে প্রচুর মাদক সেবন হতো।' শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, লাশ উদ্ধারের পর মাদকের আলামত মিলেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, 'স্বামী পলাতক, এবং আমরা তদন্ত জোরদার করেছি।'
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং পুলিশ দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছে। ঝর্ণার পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে, যখন অপু আহমেদের গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি চলছে।



