কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারে হামলায় পীর নিহত, মানবাধিকার সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় শামিম বাবার দরবার শরিফে সংঘটিত হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পীর হিসেবে পরিচিত শামিম রেজা ওরফে জাহাঙ্গির (৬৫) নিহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটি এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে, পাশাপাশি হত্যা, মাজার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উসকানিদাতা এবং সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছে।
ঘটনার বিবরণ ও উত্তেজনার পটভূমি
রবিবার (১২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এইচআরএসএস জানায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত শামিম বাবার দরবার শরিফে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন সকাল থেকে আগের একটি অনুষ্ঠানে কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই পীর শামিমসহ কয়েকজন আহত হন।
পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পীর শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শামিম বাবার দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, এমনকি ক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পীর শামিম নিহত হয়েছেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অভিযোগ
এইচআরএসএস তাদের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা মব সহিংসতার মতো ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। সংগঠনটি ক্ষতিগ্রস্ত মাজার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল উসকানিদাতা এবং সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণকারীদের দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে জোর দাবি জানাচ্ছে।
এইচআরএসএস বিশ্বাস করে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা পাওয়া এক ধরনের মৌলিক অধিকার। সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতিকে দিনদিন চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতিতে ও মব সহিংসতার মাধ্যমে বিচার কার্যকর করার প্রবণতা রোধে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান
মাজারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বাউলশিল্পীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি ও মব সহিংসতার ন্যায় আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো অপরাধ রোধে ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস। সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, যা দেশের সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।



