ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মী সাওদা সুমির জামিন মঞ্জুর, ফেসবুক পোস্টে সরকার সমালোচনার অভিযোগ
ভোলায় গ্রেফতার হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদা সুমির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই জামিন মঞ্জুর করেন। জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলার নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার ও আদালত কার্যক্রম
এর আগে, গত রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে ভোলা সদর পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ একাডেমির রোডের ক্ষণিকালয় নামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সুমি ওই একই এলাকার আব্দুল হালিম বাবুলের স্ত্রী। পরবর্তীতে সোমবার (৬ এপ্রিল) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হলে সাওদার জামিন আবেদন করা হয় এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।
ফেসবুক পোস্টে সমালোচনার অভিযোগ
গ্রেফতারের আগে সর্বশেষ বিবি সাওদা সুমি তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে 'Sawoda Sumi' দেওয়া পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমরা তো চাইলে ইরান থেকে তেল আনতে পারি, তারা তো অনুমতি দিছে, তাহলে দুই তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে কেন ভারত থেকে তেল আনা লাগবে?’ তাকে অন্যান্য পোস্টেও বিভিন্ন সময় সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় মামলার এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করে, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডিতে রাষ্ট্র এবং সরকারি বিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ভোলা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট (গোয়েন্দা শাখা)। তার মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফেসবুক পোস্টের সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, ফেসবুকের ভিউ বৃদ্ধির জন্য সমসাময়িক এবং সরকার রাজনীতি, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সম্পর্কে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। তিনি সাইবার সুরক্ষা নেট অধ্যাদেশ ২০২৫ এ শাস্তিযোগ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের আবেদন
এছাড়া তার মোবাইল ফোনে ফেসবুক পোস্টসমূহ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ তাৎক্ষণিক সম্ভব না হওয়ায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তী কার্যক্রম অনুসরণ পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখার জন্য আদালতে আবেদন করে পুলিশ। এই ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা শাখার তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
এই মামলাটি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রে সাইবার আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের সীমারেখা নিয়ে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে। ভোলার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এই গ্রেফতার ও জামিন প্রক্রিয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।



