অডিও ক্লিপ কেলেঙ্কারির পর ইউএনও হোসনে আরাকে রাজশাহীতে বদলি
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরাকে সাতক্ষীরার তালা থেকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনের বিবরণ
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, হোসনে আরাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে প্রত্যাহার করে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে ইউএনও হোসনে আরার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেওয়া হয়েছে।
অডিও ক্লিপের অভিযোগ
গত শুক্রবার ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপে হোসনে আরাকে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদ তাকে টাকাসহ বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করায় বিধিবহির্ভূতভাবে বদলি করিয়েছেন। তিনি বলেন, 'একটা মানুষের যত খারাপ দোষ থাকে সব কিছুই তার আছে। মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে এসে জামায়াতের গলা ধরেন। তার কোনো চরিত্র নাই। লাখ টাকার দুর্নীতি করেন। তা আপনারা নিউজ করেন না।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'তিনি খারাপ লোক। তার সঙ্গে কি নাইট স্টে করতে হবে। বারবার পরিষদে বিধিবহির্ভূত বরাদ্দ নিতে বলেন। আমি তাতে রাজি হইনি। আমার অসুস্থ দুইটা বাচ্চাকে নিয়ে দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে বলেছেন।' এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দিন আগে তাকে ঝিনাইদহ থেকে সাতক্ষীরার তালায় বদলি করা হয়েছিল।
সমাজের প্রতিক্রিয়া
জেলা সচেতন সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ এই ঘটনায় মন্তব্য করেন, 'বর্তমান সরকার যেখানে নারীর সুশাসন ও ক্ষমতায়নের কথা বলছে, সেখানে এক নারী ইউএনওর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। কয়েক দিন আগেই তাকে ঝিনাইদহ থেকে সাতক্ষীরার তালায় বদলি করা হয়েছিল। আজ আবার তাকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত পরিতাপের। আমার মনে হয়, ওই অডিও ক্লিপ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ক্ষুব্ধ হয়ে এমনটা ঘটাতে পারেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের তদন্ত করা উচিত।'
এ বিষয়ে ইউএনও হোসনে আরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই বদলি নিয়ে দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনা ও আলোচনা চলছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নারী কর্মকর্তাদের প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।



