ইসলামী আন্দোলনের আমির: সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কার ব্যাহত করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সংবিধানের দোহাই দিয়ে যদি রাষ্ট্রীয় সংস্কার ব্যাহত বা বিঘ্নিত করা হয়, তাহলে ইতিহাস রাজনীতিবিদদের ক্ষমা করবে না। তিনি সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেছেন, যা ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
গণভোট নিয়ে বিএনপির দ্বিচারিতার সমালোচনা
চরমোনাই পীর তাঁর বিবৃতিতে বিএনপির গণভোট নিয়ে দ্বিচারিতামূলক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গণভোট আয়োজনে বিএনপির আনুষ্ঠানিক সমর্থন ছিল এবং দলটি গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। তবে বর্তমানে বিএনপি গণভোট অধ্যাদেশকে বেআইনি ও প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গণভোটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন দ্বিচারিতা জাতিকে বিস্মিত করেছে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য ও সংস্কারের আহ্বান
ইসলামী আন্দোলনের আমির জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে জাতির ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থান ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরতন্ত্র ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই। সংবিধানকে ইচ্ছেমতো কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে রাজনীতিবিদ ও কায়েমি স্বার্থবাদীরা যে ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছিল।
গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান চাওয়া ছিল এমন একটি সংস্কার, যা ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরশাসকের জন্ম হতে দেবে না। এই লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় করে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। চরমোনাই পীর জোর দিয়ে বলেন, ‘গণভোটে জনতা সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। যে সংবিধানের বিরুদ্ধে মানুষ বিদ্রোহ করেছিল, এখন সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে যদি সংস্কারকে ব্যাহত বা বিঘ্নিত করা হয়, তাহলে ইতিহাস রাজনীতিবিদদের ক্ষমা করবে না।’
অধ্যাদেশ বাতিলের নিন্দা ও ভবিষ্যতের সতর্কতা
ইসলামী আন্দোলনের আমির জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ সংসদে না তোলা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগ যেসব আইনি সুযোগ নিয়ে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল, বিএনপি যদি সেসব সুযোগ বজায় রাখতে চায়, তাহলে জনতাকে আবারও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।
তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের আচরণ রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে, যা জাতির জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। তিনি রাজনীতিবিদদের জাতীয় স্বার্থে সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারে।



