সাগর-মেহেরুন হত্যার বিচারহীনতায় সাংবাদিক নেতাদের তীব্র প্রতিবাদ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেছেন, এই হত্যার বিচার না হওয়া তদন্তে সদিচ্ছার অভাবকেই নির্দেশ করে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারা এই মন্তব্য করেন।
তদন্তে সদিচ্ছার অভাবের অভিযোগ
বক্তারা উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত কোন সরকারই এই হত্যা মামলার সঠিক তদন্তে আন্তরিকতা দেখায়নি। তাদের মতে, যদি সত্যিকার অর্থে সদিচ্ছা থাকত, তাহলে এত দীর্ঘ সময় ধরে এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ার কথা নয়। তারা বলেন, তিনটি ধারাবাহিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু বিচার নিশ্চিত করতে কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ১২৫ বার বাড়ানো হয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, একটি উচ্চপর্যায়ের হত্যা মামলায় এতবার সময় বাড়ানোর কোন নজির আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের সত্যিকারের প্রতিশ্রুতি থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না।
নতুন সরকারের প্রতি আশা ও সতর্কতা
সাংবাদিক নেতারা বলেন, এখন একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং তারা আশা করেন, এই সরকার বিচার নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তারা জানান, সরকারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আন্দোলন শুরু করা হবে।
তারা উল্লেখ করেন, বিচার না হওয়ার এই দীর্ঘসূত্রিতা শুধু সাংবাদিক সম্প্রদায়ের জন্য লজ্জার বিষয় নয়, এটি জাতীয় মর্যাদারও প্রশ্ন। বক্তারা বলেন, এখন পর্যন্ত চারটি ভিন্ন সংস্থাকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কেউই প্রতিবেদন জমা দেয়নি। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি পরিচালনা করছে। তাদের মতে, বিচার না হওয়ার পেছনে সদিচ্ছার অভাবই মূল কারণ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যারা
ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক হামিদুল হক, সিনিয়র সদস্য মশিউর রহমান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ, কার্যালয় সম্পাদক রাশিম মোল্লা এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।



