সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দেবে
সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হলে সাংবাদিকদের কঠোর কর্মসূচি

সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দেবে

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও আজও তদন্ত শেষ না হওয়ায় দেশ ও জাতির জন্য এটি লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

সমাবেশে হুঁশিয়ারি

সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে আয়োজিত সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে সমাবেশে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ডিআরইউর সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, ডিআরইউর অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ডিআরইউর সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুশান্ত সাহা প্রমুখ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সভাপতির বক্তব্য

সভাপতির বক্তৃতায় আবু সালেহ আকন বলেন, ‘বিগত পাঁচটি সরকারের আমলে আমরা বহু আকুতি-মিনতি করেছি এই হত্যার বিচার করার জন্য, কিন্তু কেউ করেনি। এর অর্থ এই সরকারগুলো হত্যাকারীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল অথবা হত্যাকারীদের মধ্যে এমন কেউ ছিল যারা সরকারের শীর্ষ স্থানে বসে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এই বিচার আমরা পাব। গত বছর সেই আশায় আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা কিছুই করেনি। এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে, সরকারের মাত্র দেড় মাস। আমরা শান্তভাবে গঠনমূলকভাবে এই সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করব—আমরা আমাদের দুই ভাইবোনকে হারিয়েছি। দেখুন কী নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। নিজের ঘর যেখানে নিরাপদ থাকার কথা, সেই ঘরে ঢুকে তাদের মেরে ফেলা হয়েছে। সেটার বিচার আপনারা করবেন।’

আবু সালেহ আকন স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই সরকারের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা এই হত্যার বিচার করবেন। আমরা সেই আশায় বুক বেঁধে থাকব। আর যদি আপনারা বিচার করতে না পারেন, তাহলে আমরা আবারও বলব যে এই গণতান্ত্রিক সরকারও সাগর-রুনি হত্যার বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা তখন সিল মেরে দেব। এই হত্যার বিচার আমরা চেয়ে যাব।’

সাংবাদিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ

তিনি ফ্যাসিস্ট আমলের সাংবাদিক নির্যাতনের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে সাংবাদিকদের অনেকে নির্যাতন হয়েছেন, হত্যার শিকার হয়েছেন, আমরা বিচার পাইনি। বিচার চেয়েও ব্যর্থ হয়েছি। ভেতরে একটা কথা ছিল যে ফ্যাসিস্ট সরকার বিচার করবে না—এটাই স্বাভাবিক। আমরা কিন্তু ওই কথা ভেবে একটু শান্ত ছিলাম।’

আবু সালেহ আকন গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে আমরা যখন দেখি যে একজন এসিল্যান্ড, একজন ইউএনও সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে জেলে পাঠিয়ে দিচ্ছে, তখন আমরা কষ্ট পাই। সরকারে যারা আছেন, তাদের বিনয়ের সঙ্গে বলছি, এই সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন এবং শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ করুন। যারা সাংবাদিক হেনস্তা, অত্যাচার ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন। না হলে বদনামটা আপনাদেরই হবে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে কোনো সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন, হেনস্তা, হামলা বা মামলার শিকার হবে না।

কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

আবু সালেহ আকন শেষে পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। এই সমাবেশ সাংবাদিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি জোরালো পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।