শ্যামপুরে যুগান্তর সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি
রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন পোস্তগোলা কটন মিল সংলগ্ন এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের সিটি রিপোর্টার মোহাম্মদ হা-মীম। তিনি এই ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার নম্বর ১৬৭২।
ঘটনার বিবরণ
সাংবাদিক হা-মীম জানান, তিনি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে ওএমএসের সরকারি চাল অবৈধভাবে কালোবাজারি করে শ্যামপুর বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য গত ৩১ মার্চ রাত পৌনে ৫টায় তিনি শ্যামপুর থানাধীন কটন মিলের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে মোহাম্মদ বাবু, পারভেজ ও অজ্ঞাত আরেকজন ব্যক্তি তার কাজে বাধা দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "ক্ষিপ্ত হয়ে তারা বলেন, আমাদের ব্যবসা না থাকলে আপনাকেও রাখব না। শুধু তাই নয়, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তারা।" হা-মীমের মতে, পেশাগত দায়িত্ব পালনে এমন হুমকি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক, যা সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে শ্যামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমএ রউফ বলেন, "সাধারণ ডায়েরি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট রয়েছে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
এই ঘটনা সাংবাদিকতা পেশার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা বহন করে। হা-মীমের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে যে, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়শই ঝুঁকির মুখোমুখি হন। বিশেষ করে কালোবাজারি বা অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় তাদের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
- সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
- স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
এই ঘটনার পর হা-মীম বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আশা করা যায়, কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে এবং সাংবাদিকরা নিরাপদে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।



