মোবাইল চুরির অপবাদে দুই শিশুকে নির্যাতন: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, ভিডিওতে ক্ষোভ
মোবাইল চুরির অপবাদে দুই শিশু নির্যাতন: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

মোবাইল চুরির অপবাদে দুই শিশুকে নির্মম নির্যাতন: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে দুই শিশুকে মারধর ও পানিতে ডুবিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাসুমকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও ভিডিওতে ক্ষোভ

গত ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার ধলা মধ্যপাড়া এলাকার বালিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার দুই শিশু হলো: আরাফাত হোসেন (৮) ও মিহাদ হোসেন (৫)। তারা ওই এলাকার বাসিন্দা মাহাবুল আলম ওরফে বুলবুল ইসলামের সন্তান। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোবাইল চুরির সন্দেহে শিশু দুটিকে তাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ধরে এনে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানে তাদের মারধর করা হয় এবং পানিতে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে শিশুদের জোর করে ময়লাযুক্ত পানি পান করানো হয়।

এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুদের নির্মমভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, যা দেখে নেটিজেনরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় মাসুমকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও পুলিশের বক্তব্য

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের বাবা বাদী হয়ে মাসুমসহ পাঁচ জনকে আসামি করে ত্রিশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘দুই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের ঘটনা কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং শিশু অধিকার রক্ষায় পুলিশ সজাগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং তারা দ্রুত বিচার চান। শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।