সাংবাদিক তানবিরুল মিরাজের হয়রানি বন্ধে সিপিজের জোরালো আহ্বান
বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বাংলাদেশ সরকারকে সাংবাদিক তানবিরুল মিরাজের ওপর সব ধরনের হয়রানি বন্ধের জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সিপিজে এশিয়া অঞ্চলের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে এই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতা পেশার স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ডিজিএফআই কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা
সিপিজে তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, দ্য ইকোনমিস্ট ও স্কাই নিউজের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত স্বাধীন ধারার সাংবাদিক তানবিরুল মিরাজ রিপনকে গত ৩০ মার্চ কক্সবাজারে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কার্যালয়ে তলব করা হয়। সিপিজেকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিরাজ জানান, সেখানে তাঁকে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার সময় একজন কর্মকর্তা তাঁর পরিবার সম্পর্কে নানা ব্যক্তিগত প্রশ্ন তোলেন এবং ভবিষ্যতে আবারও কার্যালয়ে আসতে হতে পারে বলে সতর্ক করেন।
সিপিজের দাবি ও উদ্বেগ
সিপিজের ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়েছে, স্বাধীন ধারার সাংবাদিকদের ওপর এই ধরনের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সংবাদকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেনাবাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করার প্রথা পরিত্যাগ করতে হবে। সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকদের গোয়েন্দা সংস্থায় তলব করা বা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলা সম্পূর্ণ অনুচিত, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকিস্বরূপ।
স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রের ব্যাখ্যা
অন্যদিকে, স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তানবিরুল মিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে রোহিঙ্গা ও আরাকান আর্মির অনুগতদের আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। এই সূত্র মতে, মিরাজসহ স্থানীয় আরও দুজনকে ডেকে আলোচনা করা হয়েছে, যা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সিপিজে এই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট মনে করেনি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশার চ্যালেঞ্জগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করছে। সিপিজের মতো সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



