বগুড়ায় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী নেতার অপহরণ ও নির্মম হত্যা
বগুড়া শহরের ব্যস্ততম বাজার থেকে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় এক ব্যবসায়ী সমিতির নেতাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আলাল শেখ বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর কসাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বড় ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
২৮ মার্চ ওই সমিতির ভোট গ্রহণ চলাকালে আনুমানিক বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফতেহ আলী বাজারের মাছপট্টি থেকে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তাঁর সমর্থকেরা আলাল শেখকে ধরে টেনেহিঁচড়ে বাজারের বাইরে নিয়ে যান। এরপর মোটরসাইকেলে তুলে মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেখানে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।
আলাল শেখ আলোচিত যুবলীগ নেতা ও বগুড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মতিন সরকারের শ্যালক ছিলেন। বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে তাঁকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামও একই মহল্লার বাসিন্দা।
মামলা ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় আলাল শেখের বাবা সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এতে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৮ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, আলাল শেখকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে রগ কেটে দেওয়াসহ কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলহোতা শফিকুল ইসলাম ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে আলাল শেখকে বাজার থেকে মোটরসাইকেলে তুলে শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় নিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যরা আত্মগোপনে আছেন। আলাল শেখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরের দিকে ঢাকায় মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
যুবদলের পদক্ষেপ
ওই ঘটনার পর যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামকে দলীয় পদ ও সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সম্পর্কে বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, শফিকুল ইসলাম বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে তাঁকে যুবদলের পদ–পদবি থেকে অব্যাহতি ছাড়াও সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা বগুড়া শহরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। পুলিশ আরও তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।



