গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের সরকারি ইচ্ছা, তাসনিম জারার তীব্র সমালোচনা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা সরকারের গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সরকার এই অধ্যাদেশ বাতিল করতে চাইছে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত বা গ্রেফতারের জন্য সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে তাসনিম জারা তার মন্তব্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু যখন বলা হয় যে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কিংবা কাউকে গ্রেফতার করতে সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে, তখন রাষ্ট্র মূলত নিজেকেই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে স্থাপন করে।"
জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন
ঢাকা-৯ আসন থেকে ভোটে অংশ নেওয়া এই নেত্রী আরও উল্লেখ করেন, "একটু ভেবে দেখুন, যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ ওঠে, আর সেই তদন্তের জন্য যদি খোদ সরকারের কাছেই অনুমতি চাইতে হয়, তাহলে কি কখনো সুষ্ঠু বিচার পাওয়া সম্ভব?" তিনি দাবি করেন যে, বিগত সরকারের আমলে গুমের শিকার পরিবারগুলো এই অনুমতি না পাওয়ার কারণেই ন্যায়বিচার পায়নি।
সাংবিধানিক নীতির লঙ্ঘনের অভিযোগ
তাসনিম জারা তার পোস্টে আরও বলেন, "আইনের চোখে সবাই সমান—এই সর্বজনীন সাংবিধানিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হচ্ছে সরকারের এই পদক্ষেপে।" তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আইনকে অন্ধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে, অন্যথায় তা ক্ষমতাধারীদের সুরক্ষা দেওয়ার এবং সাধারণ জনগণকে নিষ্পেষণের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে।
এই বিষয়ে সরকারের যুক্তি হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত বা গ্রেফতারের জন্য পূর্বানুমতি প্রয়োজনীয়, কিন্তু তাসনিম জারা এটিকে জবাবদিহিতা হ্রাসের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এই পদক্ষেপ গুমের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং নাগরিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।



