জিয়াউর রহমানের গণভোট ও বর্তমান আইন বাতিল নিয়ে শিশির মনিরের তীব্র প্রতিক্রিয়া
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মনির শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে হওয়া গণভোট এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি ১৯৭৭ সালের ৩০ মে অনুষ্ঠিত গণভোটের কথা স্মরণ করে বলেন, "গণভোটের প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং তার নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি আপনার আস্থা আছে কি? হ্যাঁ অথবা না বলুন। ৮৮% লোক হ্যাঁ বলেছিল।"
গণভোটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
শিশির মনির প্রশ্ন তোলেন, "তখন কি সংবিধানে গণভোট ছিল? সংবিধানে গণভোট এসেছে ১৯৭৮ সালে, মার্শাল ল প্রক্লেমেশনের মাধ্যমে।" তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের চারটি প্রশ্ন নিয়ে বিদ্রূপ করে বলেন, "আমাদের চার প্রশ্ন পড়তে দুই মিনিটের বেশি লাগবে না, কিন্তু আমার ভাইয়ের চার প্রশ্ন পড়তে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এরা এসে আমাদেরকে সবক দিচ্ছে সংবিধানে নাই, কিন্তু তখন কি ছিল? মার্শাল ল জারি করে সংবিধান কেটে, ছিঁড়ে এখন আমাদেরকে এসে সবক শোনাচ্ছেন কোনটা সাংবিধানিক আর অসাংবিধানিক।"
বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিলের তীব্র নিন্দা
শিশির মনির বর্তমান সরকারের আইনগত পদক্ষেপগুলোর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইন, গুম প্রতিরোধ প্রতিকার অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজলিউশন অর্ডিন্যান্স বাদ করে দেওয়া হচ্ছে।" তিনি এগুলোকে "ট্রমাটিক" আখ্যা দিয়ে উল্লেখ করেন যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশোধনীয় অধ্যাদেশ ২০২৫-এর মাধ্যমে সার্চ কমিটি করে মহাপরিচালক নিয়োগের বিধান বাদ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, "মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে পাওয়ার দেওয়া হচ্ছে, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গুমের তদন্ত করতে পারবে। কারণ দেখে আমি হাসলাম, গুমের সঙ্গে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ জড়িত থাকে মর্মে এই আইনটিকে ল্যাপ্স করে দেওয়া দরকার।"
ক্ষমতার ভারসাম্য ও রাজনৈতিক পরিণতি
শিশির মনির দাবি করেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যে কাজগুলো করা হয়েছিল, তারা তা বজায় রাখতে চান না। তারা এটাকে এবসলিউটলি এক্সারসাইজ করতে চান, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক।" তিনি আরও বলেন, "আমরা যারা সময় দিয়েছি, কাজ করেছি এই সমস্ত অর্ডিন্যান্সগুলোর সঙ্গে, ল মিনিস্ট্রি প্রতিটা অর্ডিন্যান্স ফ্রেম করার আগে তিন-চারটা ওয়ার্কশপের আয়োজন হতো।"
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কনফিউশন তৈরি হচ্ছে, এবং এই কনফিউশন রাজনীতিতে হাজির হবে। এমন রাজনৈতিক ভাবনা যদি কোনো নেতাদের থাকে, তাহলে এই নেতৃত্ব সম্পর্কে আমাদের আস্থা থাকবে না।"
গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আশঙ্কা
শিশির মনির সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে যদি নেতাদের চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়। অভ্যুত্থানের আইকনিক নেতৃত্বকে যদি ধরে ধরে ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেট করা হয়, তাহলে অভ্যুত্থানটা বড় প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।"
তিনি শেষে বলেন, "বিএনপি, জামায়াত বা অন্যান্য নেতাদের ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেট করলে লাভ হবে কার? নিজের ব্যক্তিত্বকে সংরক্ষণ করা দরকার, দ্বিচারিতার দিকে যাওয়া উচিত না। তাহলে অসম্মান সবার হবে, পরিণতি সবার একই রকম।"



