নারায়ণগঞ্জে নবজাতককে নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টা, মা-বাবা পুলিশের হেফাজতে
নারায়ণগঞ্জে নবজাতক হত্যাচেষ্টা, মা-বাবা আটক

নারায়ণগঞ্জে নবজাতককে নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মা-বাবা নিজের নবজাতক সন্তানকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডের বক্তারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দ্রুত সাড়া দেওয়ায় শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বক্তারকান্দি এলাকার দারুল হক মাদ্রাসার পেছনে মোজাম্মেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া ওই দম্পতি বৃহস্পতিবার সকালে তাদের নবজাতক শিশুকে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে যান। সেখানে জনমানবহীন একটি স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের আড়ালে শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পাশাপাশি, তারা মা-বাবাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশি ব্যবস্থা

নিজের সন্তানকে হত্যাচেষ্টার খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা ওই দম্পতিকে আটকে রেখে বন্দর থানায় খবর দেন। সংবাদ পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকের মা-বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষের বিবেক কতটা নিচে নামলে নিজের নাড়িছেঁড়া ধনকে কেউ এভাবে নদীতে ফেলে মারার চেষ্টা করতে পারে? এমন অমানবিক কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

বন্দর থানার ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফউদ্দিন জানান, কেন এবং কী কারণে তারা এমন অমানবিক ও নৃশংস পথ বেছে নিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত নবজাতকটির শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণ ও মোটিভ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মনস্তাত্ত্বিক চাপ বা সামাজিক সমস্যা এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।