কুমিল্লার চান্দিনায় ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া
ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া

কুমিল্লার চান্দিনায় ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া

কুমিল্লার চান্দিনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আচরণের ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল চারটার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পরিচয়

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক আমার শহরের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আবদুল আলীম এবং দৈনিক মানবজমিনের দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার।

সাংবাদিকদের অভিযোগ

সাংবাদিক আবদুল আলীম বুধবার রাতে ফেসবুক লাইভে জানান, তার খালাতো বোনের পরিবারের একটি নামজারির শুনানি উপলক্ষে তিনি ও রাসেল সরকার দুপুরে ভূমি অফিসে যান। শুনানি হবে কি না জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর উত্তেজিত হয়ে খারাপ আচরণ শুরু করেন। সেই আচরণের ভিডিও করতে গেলে এসিল্যান্ড তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চান। বাধা দেওয়ায় পুলিশ ডেকে দুজনকেই হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠান তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবদুল আলীম আরও অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর এসিল্যান্ড জোর করে মোবাইলের লক খুলে গ্যালারির সব ছবি ও ভিডিও মুছে দেন। পরে ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার শর্তে জোর করে মুচলেকা নেওয়া হয়।

সহকারী কমিশনারের বক্তব্য

তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর দাবি করেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির ফল। তিনি বলেন, শুনানি চলাকালে দুজন কার্যালয়ে প্রবেশ করে অনুমতি ছাড়াই ভিডিও করতে শুরু করেন। বিব্রত হয়ে পুলিশকে জানানোর পর তাদের 'উচ্ছৃঙ্খল আচরণের' কারণে পুলিশ হাতকড়া পরায়। পরে দুই পক্ষ বসে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

বুধবার রাতে হাতকড়া পরিহিত দুই সাংবাদিকের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানান। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক (ফারুক) বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কেউ ভুল করলে আইনি পথে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু হাতকড়া পরিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা করা অগ্রহণযোগ্য। তিনি অবিলম্বে ওই এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে এবং খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার উপর জোর দিয়েছেন।

এই ঘটনা সাংবাদিকতা ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।