সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মামলার আসামি হলেন যুগান্তরের সাংবাদিক
দৈনিক যুগান্তরের নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রতিনিধি মো. মহিবুল ইসলামকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় আসামি করা হয়েছে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের দুয়ারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত
জানা যায়, গত ২৫ মার্চ বুধবার দুয়ারিয়া ও বাহুড়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ফারুক হোসেন (৩২) নামে একজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে সাংবাদিক মহিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যান।
মামলা দায়ের ও সাংবাদিকের আসামি হওয়া
এ ঘটনায় আহত ফারুক হোসেনের বাবা বাদী হয়ে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২৯ মার্চ রোববার আসামিপক্ষ কুমিল্লার আদালতে পৃথক একটি মারামারির মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় হয়রানির উদ্দেশ্যে এবং পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক মহিবুল ইসলামকে ৪নং আসামি করা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিবুল ইসলাম জানান, মারামারির খবর পেয়ে তিনি প্রথমে পুলিশকে এবং পরে সেনাবাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন। তবে ১ এপ্রিল বুধবার তিনি জানতে পারেন, তাকে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, "সেদিন সাংবাদিক মহিবুল ইসলাম আমাকে ফোনে সংঘর্ষের কথা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি আমি অবগত নই।"
এই ঘটনায় সাংবাদিক মহিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকতা পেশার স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিয়ে এই ঘটনা নতুন প্রশ্ন তুলেছে। নাঙ্গলকোট এলাকায় এই মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা এখন দেখার বিষয়।



