কুমিল্লায় দুই সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে ঘটনাটি ঘটে এবং বিকেল চারটার দিকে মুচলেকা নিয়ে ওই দুই সাংবাদিককে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন স্থানীয় দৈনিক আমার শহরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি আবদুল আলীম ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার। তাঁরা অভিযোগ করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের খারাপ আচরণের ভিডিও করায় তাঁদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়।
আবদুল আলিম বলেন, ‘আমার খালাতো বোনের পরিবারের একটি নামজারির শুনানির দিন ছিল। আমরা এসি ল্যান্ডকে জিজ্ঞেস করি, আজ শুনানি হবে কি না। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। আমি তার আচরণের ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চান। পরে তিনি পুলিশকে ডেকে আমাদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন।’
থানায় নেওয়ার পর আবদুল আলিম আরও অভিযোগ করেন, ‘এসি ল্যান্ড জোর করে আমার মোবাইল ফোনের লক খুলে গ্যালারির সব ছবি ও ভিডিও মুছে দেন। পরে আমাদের কাছ থেকে জোর করে মুচলেকা নেওয়া হয়।’
সহকারী কমিশনারের বক্তব্য
তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি একটি শুনানি করছিলাম। তাঁরা আমার কার্যালয়ে প্রবেশ করে অনুমতি ছাড়াই ভিডিও শুরু করেন। আমি বিব্রত হয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ তাদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে হাতকড়া পরায়। হাতকড়া পরানোর আগপর্যন্ত আমি জানতাম না তাঁরা সংবাদকর্মী। পরে বিষয়টি জেনে সঙ্গে সঙ্গে হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাধান হয়ে যাওয়া ঘটনাটি ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হয়েছে। আমি কোনোভাবেই ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি।’
সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া
বুধবার সন্ধ্যায় ওই দুই সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিহিত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকেরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক (ফারুক) বলেন, ‘সাংবাদিকেরা সমাজের বিবেক। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। দুজন সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিয়ে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এর উপযুক্ত বিচার প্রার্থনা করছি। অবিলম্বে এই এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে।’
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। তবে আমি এখনো পুরো ঘটনাটি ভালোভাবে জানিনি। এরপরও বলব, এমন ঘটনা দুঃখজনক। সাংবাদিকেরা আমাদের দর্পণ, আমরা সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ঘটনাটি সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।



