ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তরুণী গণধর্ষণ: চার বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, একজন গ্রেফতার
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক তরুণীকে ফসলি জমিতে নিয়ে গণধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। চার বন্ধুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে, যাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম নামে একজনকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ গ্রামের একটি ফসলি মাঠে সংঘটিত হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও উদ্ধার অভিযান
বুধবার সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের দুইটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীটিকে উদ্ধার করে। তিনি বলেন, "কল পেয়ে আমরা জানতে পারি যে খামিনারবাগ গ্রামে এক তরুণীকে আটকে রেখে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করেছে। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করি।"
তরুণীর বক্তব্য ও অভিযোগের বিবরণ
উদ্ধারকৃত তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন যে তাকে নাহিদ, সাদ্দাম, নাজমুল ও নুর আলম নামের চার ব্যক্তি ফসলের মাঠে নিয়ে জোর করে রাতভর গণধর্ষণ করেছে। এছাড়াও, তারা তার কাছ থেকে এক জোড়া সোনার দুল ও নগদ সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তরুণীটি ভাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন এবং তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার ও চলমান তদন্ত
ওসি মিজানুর রহমান আরও বলেন, "গণধর্ষণের ঘটনায় নাহিদ নামের একজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তিনি কালামৃর্ধা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামের শাহীন ফরাজির পুত্র। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" পুলিশের তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই চার বন্ধু মিলে পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধটি সংঘটিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুততার সঙ্গে বাকি আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।



