ঝিনাইদহের মহেশপুরে দশম শ্রেণির ছাত্রীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ভিডিও ধারণের অভিযোগ
মহেশপুরে ছাত্রী ধর্ষণ: ভিডিও ধারণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১

ঝিনাইদহের মহেশপুরে দশম শ্রেণির ছাত্রীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ভিডিও ধারণের অভিযোগ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের সময় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করারও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে তৎপরতা চলছে।

ঘটনার বিবরণ

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের বাগদিয়ার আইট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাতপোতা মডেল একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। মামলার বাদী হিসেবে ভুক্তভোগীর ফুফু জানিয়েছেন, পড়াশোনার সময় তার ভাইয়ের মেয়ের সঙ্গে একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ঘটনার রাতে ছাত্রী তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ির পাশের রাস্তায় গেলে, আলী ও শাওন নামের দুই ব্যক্তি প্রেমিককে মারধর করে তাড়িয়ে দেন। এরপর তারা ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে পাশ্ববর্তী মাঠের ঘাসখেতের ভেতরে নিয়ে যান। ঘটনাস্থলে আগে থেকেই নয়ন ও আমিন নামের আরও দুই ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ

বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, আলী, শাওন ও নয়ন মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় আমিন ধর্ষণের ঘটনা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। এই ভিডিও ধারণের অভিযোগটি ঘটনাকে আরও জটিল ও নৃশংস করে তুলেছে।

পুলিশি তৎপরতা

মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর ফুফু বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মহেশপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। মামলার পরপরই রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে প্রধান অভিযুক্ত আলীকে গ্রেফতার করেছে।

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, "এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পরপরই রাতে অভিযান চালিয়ে আলীকে গ্রেফতার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।" মামলার অন্য আসামিরা হলেন বাগদিয়ার আইট গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে শাওন, দিনু মিয়ার ছেলে নয়ন ও ফরিদ মিয়ার ছেলে আমিন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

এই ধর্ষণ মামলাটি সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতার একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের সংকটকে তুলে ধরে। পুলিশের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।