সংবাদমাধ্যমে যৌন হয়রানি: জরিপে ১৫ শতাংশ কর্মী শিকার, ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে
দেশের সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও অন্যান্য সংবাদকর্মীদের মধ্যে অন্তত ১৫ শতাংশ যৌন হয়রানির শিকার বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩৩৯ জনের মধ্যে কয়েকজন ধর্ষণের অভিযোগও তুলেছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমে যৌন হয়রানি প্রতিকার নীতিমালা প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
জরিপের বিস্তারিত তথ্য ও অংশগ্রহণকারী
নীতিমালাটি বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন এবং ওয়ান-ইফরার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে। ওয়ান-ইফরা ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ২০২৫ সালের সমীক্ষায় বাংলাদেশসহ আরব অঞ্চল, সাব-সাহারা আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট ২০টি দেশের সংবাদকর্মীরা অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে জরিপে অংশ নেন ৩৩৯ জন সংবাদকর্মী; এর মধ্যে ১০০ জন নারী, ১৯০ জন পুরুষ এবং ৪৯ জন লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করেননি।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাংবাদিক, ফটোসাংবাদিক ও কারিগরি কর্মী ছিলেন ২৪২ জন। এছাড়া সম্পাদক, প্রযোজক, ব্যবস্থাপক, বিভাগীয় প্রধান ও টিম লিড পর্যায়ের ৮৬ জন এবং নির্বাহী, পরিচালক, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পর্যায়ের ১০ জন এতে অংশ নেন। শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাও জরিপে যুক্ত ছিলেন।
নারী ও পুরুষ সংবাদকর্মীদের হয়রানির হার
জরিপটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়। এতে দেখা গেছে, নারী সংবাদকর্মীদের ৬০ শতাংশ মৌখিকভাবে, ৪৮ শতাংশ অনলাইনে এবং ২৪ শতাংশ শারীরিকভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৯ শতাংশ, ১৫ শতাংশ ও ৭ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সংবাদমাধ্যম উন্নয়ন ব্যবস্থাপক রাশেদুল হাসান জানান, জরিপে অংশ নেওয়া ৯ জন (৭ জন নারী ও ২ জন পুরুষ) ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আরও বিস্তারিত জানার জন্য ওয়ান-ইফরার কাছে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার হলে জানা যাবে, এসব ঘটনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সহকর্মীদের মাধ্যমে ঘটেছে নাকি বাইরের ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও প্রতিকারের আহ্বান
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মতিউর রহমান চৌধুরী, আয়েশা কবির, সাইফুল আলম চৌধুরী এবং মো. আল মামুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আঙ্গুর নাহার মন্টি। নীতিমালা উপস্থাপন করেন আরাফাত সিদ্দিক। অনলাইনে যুক্ত হয়ে নীতিমালা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সুলাইমান নিলয়।
বক্তারা বলেন, সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নীরব না থেকে প্রতিকার চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মালিকপক্ষ, সম্পাদক ও ব্যবস্থাপকদের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এই জরিপটি সংবাদমাধ্যমে যৌন হয়রানির ব্যাপকতা ও এর প্রতিকারের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।



