ফরিদপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীকে গরম পানিতে ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা অভিযুক্ত
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে গরম পানিতে ঝলসে দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার খালাসির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল বাজারে বাবলু মোল্লার চায়ের দোকানে সংঘটিত হয়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত ব্যক্তি সোহেল মোল্লা (৩১) বোয়ালমারী উপজেলার ফলিয়া গ্রামের শাহাজাহান মোল্লার ছেলে। তিনি একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন, যেখানে আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার খালাসিসহ কয়েকজন চা পান করছিলেন।
সোহেল মোল্লা প্রথমে আক্তার খালাসির পাঞ্জাবির হাতা টেনে ধরেন, পরে পাঞ্জাবির কলার টেনে ধরলে উত্তেজিত হয়ে আক্তার খালাসি চায়ের দোকানের কেটলির গরম পানি ঢেলে দেন সোহেল মোল্লার শরীরে। চায়ের দোকানদার বাবলু মোল্লা বলেন, "সোহেল মোল্লা একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। সে আক্তার খালাসির পাঞ্জাবি টেনে ধরায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দোকানের চায়ের গরম পানি তার শরীরে ঢেলে দেন।"
অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার খালাসি বলেন, "আমার পাঞ্জাবি টেনে ধরে, পরে আমার গলা চেপে ধরলে আমি ছাড়াতে গিয়ে কেটলি দিয়ে আঘাত করি; কিন্তু কেটলিতে গরম পানি ছিল আমার জানা ছিল না। এ ঘটনায় আমি নিজেই অনুতপ্ত।" তিনি পার্শ্ববর্তী আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত।
আহতের অবস্থা ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
ভুক্তভোগী সোহেল মোল্লার বাবা শাহাজাহান মোল্লা বলেন, "মারাত্মক আহত অবস্থায় ছেলে সোহেলকে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেলেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আমার ছেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। আমি গরিব মানুষ, টাকা-পয়সা নেই। এখন ছেলের চিকিৎসা করাব কিভাবে বুঝতে পারছি না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।"
পুলিশের বক্তব্য
আলফাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক আবুল হাসনাত খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "হাসপাতালে ছেলেটিকে দেখেছি। যেহেতু ঘটনাস্থল বোয়ালমারী, সেই কারণে ভুক্তভোগীর স্বজনদের বোয়ালমারী থানায় যাবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।" অন্যদিকে, বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, "এ বিষয়ে কেউ এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি।"
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি উঠছে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।



