ফয়জুল হাকিমের দাবি: ২৫ মার্চের গণহত্যা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিন
ফয়জুল হাকিম: ২৫ মার্চের গণহত্যা নতুন প্রজন্মকে জানাতে উদ্যোগ নিন

ফয়জুল হাকিমের জোরালো দাবি: ২৫ মার্চের গণহত্যা নতুন প্রজন্মকে জানাতে সরকারি উদ্যোগ চাই

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রাম স্বাধীনতার জন্য মহান জনযুদ্ধের সূচনা ছিল। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, পূর্ব বাংলার নিরস্ত্র জনগণের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী চালানো "অপারেশন সার্চ লাইট" ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত গণহত্যা, যা ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

নতুন প্রজন্মের জন্য বিশেষ উদ্যোগের আহ্বান

ফয়জুল হাকিম তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, ২৫ মার্চের নৃশংসতা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে বিস্তারিত জানাতে সরকারকে অবশ্যই বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বুধবার (২৫ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতিতে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন।

সশস্ত্র প্রতিরোধের ঐতিহাসিক ভূমিকা

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ২৫ মার্চের গণহত্যার খবর দ্রুতই সমগ্র পূর্ব বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ জনগণ, কমিউনিস্ট ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা, বিদ্রোহী বাঙালি আর্মি অফিসার ও সৈনিক, পুলিশ, ইপিআর, আনসার প্রভৃতি বাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সশস্ত্র প্রতিরোধকে তিনি এক ন্যায্য যুদ্ধের সূচনা এবং স্বাধীনতার জন্য এক মহান জনযুদ্ধের ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের ফলাফল ও আইন প্রণয়নের বিলম্ব

ফয়জুল হাকিম বলেন, স্বাধীনতার জন্য এই ন্যায্য যুদ্ধে পরাজিত হয় পাকিস্তানি হানাদার সেনাবাহিনী এবং তাদের এদেশীয় সহযোগী জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, রাজাকার-আল বদর-আল শামসসহ অন্যায় সংগঠনগুলো। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে যোগ করেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে, ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার আইন প্রণয়ন করা হয়, যা একটি বিলম্বিত পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত।

সরকারের প্রতি জোরালো দাবি

বিবৃতিতে তিনি সরকারের নিকট জোর দাবি জানান, পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর চাপানো এই গণহত্যা এবং ঐতিহাসিক ২৫ মার্চের ঘটনাবলী বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করা হোক এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হোক। তিনি বিশ্বাস করেন, এই উদ্যোগ জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সংরক্ষণ ও প্রচারে সহায়ক হবে।