কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুর মরদেহ উদ্ধার: তদন্তে পুলিশ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি ময়লার স্তূপ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাম নূর হালিমা এবং তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত নূর হালিমা কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের ই–ব্লকের বাসিন্দা নূর আলমের কন্যা। স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতারা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পের ই–ব্লকসংলগ্ন একটি ময়লার স্তূপের পাশে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় রোহিঙ্গারা বিষয়টি আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের অবহিত করেন।
পরবর্তীতে উখিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আশ্রয়শিবিরের পরিস্থিতি
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, কুতুপালং নিবন্ধিত এই আশ্রয়শিবিরে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গার বসবাস। এই ঘটনা আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তা ও মানবিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো শিশুটির মৃত্যুর তদন্তে দ্রুত ও স্বচ্ছতা কামনা করেছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ আশ্রয়শিবিরের অভ্যন্তরে ও আশেপাশের এলাকায় জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে। শিশুটির পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের সাথে কথা বলে ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।



