জামালপুরে শ্বশুরবাড়িতে বউ নিতে এসে সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে বউ নিতে এসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে ডোয়াইল ইউনিয়নের ঢোলভিটি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢোলভিটি গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তারের সঙ্গে চাপারকোনা গ্রামের রনি মিয়ার তিন মাস আগে বিয়ের কাবিন হয়েছিল। তবে কাবিনের পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য তৈরি হয়। রনি মিয়া সোমবার রাতে লোকজন নিয়ে তার স্ত্রীকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন।
এ সময় মেয়ের বাবা মেয়েকে দিতে অনীহা প্রকাশ করলে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় প্রতিবেশী সোহেল রানা ঘটনাস্থলে এলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়, পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হার্ট অ্যাটাকে আরেকজনের মৃত্যু
অন্যদিকে, ধানক্ষেতে সোহেল রানার মরদেহ দেখতে এসে একই গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান। এই দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সোহেল রানার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পক্ষগুলোর বক্তব্য
রনি মিয়ার পক্ষের চান মিয়া চানু ও মফিজ বলেন, "কাবিন হয়েছে আগেই কিন্তু তারা এখন মেয়ে দিতে অস্বীকার করছে। আমরা কথা বলে মেয়ে নিতে আসলাম, কিন্তু তারা উত্তেজিত হয়ে মারামারি শুরু করে।"
কনের দাদি আছিয়া বেগম পাল্টা দাবি করেন, "রনি দলবল নিয়ে আমার নাতিকে তুলে নিতে চেয়েছিল। তারাই আগে হামলা করে। আমরা মেয়ে তুলে দিতে চেয়েছিলাম এক সপ্তাহ পরে, কিন্তু তারা আজই জোর করে নিয়ে যাবে।"
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া বলেন, "৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। বিয়ের বিষয়ে শালিস বৈঠকে মারামারি হয়। সোহেল রানার লাশ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্যজনের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি।"
পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত করছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছে।



