দিনাজপুরের বীরগঞ্জে জমি বিরোধে নারী-শিশু হামলা, বাড়ি অবরুদ্ধ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা, বসতবাড়িতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া এবং নারী-শিশুর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চার নারী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিমু আক্তার (২২) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তার ডান চোখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে।
জমি দখলের চেষ্টা ও বাড়ি অবরুদ্ধকরণ
উপজেলার বর্ষা মৌজার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম (৫০) লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার চাচাতো ভাই মোজাহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করায় সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একটি চক্র তার ১৭ শতাংশ ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে সংঘবদ্ধভাবে বাড়ির বেড়া ভাঙচুর করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়িতে ঢোকার একমাত্র পথটি বন্ধ করে চারদিকে বেড়া দেওয়া হয়েছে। আমি এখন কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। প্রশাসনের জরুরি সহযোগিতা চাই।’ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে পরিবারটি চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।
নারীদের ওপর হামলা ও আহতদের অবস্থা
একই বিরোধকে কেন্দ্র করে আরেকটি হামলায় মোছা সুলতানা বেগম (৫৫), লায়লা বেগম (৩৩) ও হুসনে আরা বেগম (৩০) আহত হয়েছেন। সবচেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন শিমু আক্তার (২২), যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং তার ডান চোখে গুরুতর জখম হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে শিমুর অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিমুর চোখের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
থানায় অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি
ঘটনার পর বীরগঞ্জ থানায় পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং এই হামলা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। তারা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।



