মাদারীপুরে সালিশের নামে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: ফল ব্যবসায়ী শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় সালিশের নামে ডেকে এনে ফল ব্যবসায়ী জাকির শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামাইসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
জানা যায়, মধ্যপাড়া এলাকার রাসেল বেপারীর ভাই সোহেল বেপারীর বসতঘরে সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার সকালে একই এলাকার মজিদ খানের পরিবারের সঙ্গে সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করেন এলাকার মাতবররা। সেখানে পরিকল্পিতভাবে রাসেল বেপারীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। বাধা দেওয়ায় নারীসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ পক্ষ।
পরে ফের সালিশের কথা বলে রাসেলের শ্বশুর জাকির শেখকে খবর দিয়ে জামাইয়ের বাড়িতে আনা হয়। জাকির শেখ ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে মজিদ খান ও তার ছেলেসহ সমর্থকরা। আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জাকিরকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত ডা. আল ইয়াসা।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহত জাকির শেখ রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের নুর জামান শেখের ছেলে। তিনি রাজৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তার জামাই রাসেল বেপারীসহ আরও চারজন।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধরা অভিযুক্তদের চারটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে।
আহতের বক্তব্য ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
আহত রাসেল বেপারী বলেন, "পরিকল্পিতভাবে আমার শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। সামান্য চুরি নিয়ে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা হবে, সেটা বুঝতে পারিনি।"
রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, "এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দোষীকে ধরতে এরইমধ্যে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।"
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



