ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শিশু মরিয়মের নির্মম হত্যা: চুলা থেকে উদ্ধার লাশ, আটক ১
ঈশ্বরগঞ্জে শিশু হত্যা: চুলা থেকে লাশ, আটক ১

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শিশু মরিয়মের নির্মম হত্যা: চুলা থেকে উদ্ধার লাশ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চার বছরের শিশুকন্যা মরিয়ম (ডাকনাম সিয়া)কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে প্রতিবেশীর রান্নাঘরের চুলার ভেতর থেকে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইয়াসিন (১৭) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বৃহস্পতিবার রাতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত শিশু মরিয়ম ওই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটি দুপুর থেকেই নিখোঁজ ছিল। পরিবার ও এলাকাবাসী ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানোর পর প্রতিবেশী রুকিয়া বেগমের রান্নাঘরের চুলার ভেতর থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ বহন করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার পেছনে সম্ভাব্য কারণ

নিহত শিশু মরিয়মের স্বজনদের অভিযোগ, তার গলায় একটি রূপার চেইন ছিল। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের উৎপাত ও দুর্বৃত্তদের উপদ্রব চলছে। পরিবারের ধারণা, নেশার অর্থ জোগাড় করতে দুর্বৃত্তরা শিশুটির রূপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযম জানান, শিশু হত্যার এ মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মারুয়াখালী গ্রামের সাদ্দামের ছেলে ইয়াসিনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, আটককৃত ইয়াসিনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, তবে বিস্তারিত তদন্ত চলমান। এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও শিশু অধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। শিশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।