লাদাখে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে বিশাল প্রতিবাদ
লাদাখকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা প্রদান এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সোমবার (১৬ মার্চ) এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও ধর্মঘটের মাধ্যমে অচল হয়ে পড়েছে কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলটি। কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ) এবং লেহ অ্যাপেক্স বডির (এলএবি) ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই প্রথম লাদাখে এমন বড় ধরনের গণজমায়েত লক্ষ্য করা গেল।
প্রতিবাদীদের পদযাত্রা ও মূল দাবি
লেহ শহরের সিঙ্গে নামগিয়াল চক থেকে পোলো গ্রাউন্ড পর্যন্ত কয়েকশ মানুষের পদযাত্রা এবং কার্গিল শহরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বর্তমান কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। প্রতিবাদীরা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাদের দাবি, ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার পর গত ছয় বছরে এখানকার মানুষ গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ও সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
নেতাদের বক্তব্য ও অতীত ঘটনার প্রসঙ্গ
কেডিএ-র সদস্য সাজ্জাদ কার্গিলি এই সমাবেশ থেকে বলেন যে, অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পাহাড়ের মানুষের কণ্ঠস্বর এখন আরও জোরালো হচ্ছে। যদিও প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে তাদের বৈধ অধিকার আদায়ের লড়াই চলবে। একই সঙ্গে তারা দেলদান নামগিয়াল এবং সমানলা দর্জে-র মুক্তির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। লেহ শহরের এই সমাবেশে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত চার জন বেসামরিক নাগরিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর লাদাখে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে চার জন নিহত এবং প্রায় ৯০ জন আহত হয়েছিলেন।
আন্দোলনের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই ঘটনার রেশ ধরে ২৬ সেপ্টেম্বর সোনাম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই সময় লেহ শহরে দীর্ঘ সময় ধরে কার্ফিউ জারি এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এলএবি-র চেয়ারম্যান দর্জে লাকরুক সোনাম ওয়াংচুকের মুক্তিকে লাদাখের মানুষের মর্যাদার জয় হিসেবে অভিহিত করলেও জানান যে, আন্দোলনের মূল দাবিগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বর্তমানে লাদাখের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস পথে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা। তারা জানিয়েছেন, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই রিলে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। লাদাখের বিশেষ সংস্কৃতি, ভূমি ও কর্মসংস্থানের সুরক্ষার জন্য তারা এই সাংবিধানিক রক্ষাকবচকে অপরিহার্য মনে করছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই নতুন করে জেগে ওঠা আন্দোলনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লাদাখের রাজনৈতিক সংকট অদূর ভবিষ্যতে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। সূত্র: দ্য হিন্দু



