বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশের অভাব: একটি কঠোর বাস্তবতা
বাংলাদেশ মোটেও প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়, এটি একটি নির্মম সত্য যা প্রতিদিনের জীবনযাপনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গণপরিবহনে উঠতে গেলে ধাক্কাধাক্কিতে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ফুটপাত ও রাস্তাঘাট এতটাই উঁচু যে চলাফেরা করা একটি দুঃসাধ্য কাজ হয়ে দাঁড়ায়, আর সুস্থ মানুষের হাজার রসিকতা সহ্য করতে হয় প্রতিবন্ধীদের।
গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের প্রহসন
রিকশায় উঠতে গেলেও হাজার ঝক্কি পোহাতে হয়, আর বাসের গায়ে 'প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত' শব্দগুলো প্রহসন হয়ে চেয়ে থাকে। কতটুকু সংরক্ষণ করা হয় ওই আসনগুলো? সুস্থ মানুষই বসে কূল পায় না, প্রতিবন্ধীদের জন্য তো কথাই নেই। কাজের জায়গাগুলোয়ও হাজার হাজার সিঁড়ি বেয়ে চলাফেরা করতে হয়, লিফট থাকলেও সেটি চলে কি চলে না, তার কোনো ঠিক নেই।
নারী প্রতিবন্ধীদের উপর যৌন হয়রানি ও অর্থনৈতিক চাপ
গণপরিবহনে প্রতিদিনের যৌন হয়রানি হাজারো নারী মুখ বুজে সহ্য করে যান প্রতিনিয়ত। এই দেশে প্রতিদিন উবার–পাঠাও অথবা নিজের গাড়ির মতো বিলাসিতা করতে পারেন কতজন নারী? নানা বয়সী প্রতিবন্ধী নারী প্রতিদিন ঝরে পড়ে যায় স্কুল–কলেজ থেকে, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে। এমনকি বিয়ের বাজারেও প্রতিবন্ধী একজন নারীকে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের যৌতুক, যা একটি অমানবিক চাপ।
সমাজে প্রতিবন্ধী নারীদের লাঞ্ছনা ও বৈষম্য
যেখানে একজন অন্ধ পুরুষের পাশে সুস্থ স্ত্রী আশা করতেই পারে এই সমাজ, কিন্তু সেই প্রতিবন্ধী যদি হন নারী, তবে তার কপালে লাঞ্ছনা–গঞ্জনার অভাব নেই। প্রতিবন্ধী ভাতার সিস্টেম থাকলেও সেই সামান্য টাকার জন্য করা গোল্ডেন সিটিজেন কার্ড আসল প্রতিবন্ধীর জায়গায় ভাতা নিয়ে যান সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ, যা একটি বড় ধরনের দুর্নীতি।
প্রিয় বাংলাদেশ, তুমি প্রতিবন্ধীর দেশ হবে কবে? এই প্রশ্নটি আজও অমীমাংসিত থেকে গেছে। দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা, কিন্তু প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের।



