শিশু রাইসা হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, বিচারের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় শিশু রাইসা আক্তারকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল ৪টায় উপজেলার রাকুদিয়া নতুনহাট এলাকায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলমান থাকে।
মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণ, যান চলাচল ব্যাহত
মানববন্ধনে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান। এই সময়ে মহাসড়কের দুই ধারে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে, ফলে সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও নিহতের পিতার বক্তব্য
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং নিহত রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম হাওলাদার। ব্যারিস্টার ফুয়াদ তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, পুলিশ শিশু রাইসা হত্যাকাণ্ডকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জালাল শিকদারের পুত্র ও কিশোর গ্যাং লিডার সিফাত শিকদারকে গ্রেফতারে পুলিশ টালবাহানা করলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শিশু রাইসাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনা। বক্তারা অবিলম্বে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি: কিশোর গ্যাংয়ের নির্মমতা
গত ১৫ মার্চ দুপুরে রাইসা আক্তার বাড়ি ফেরার পথে কিশোর গ্যাংয়ের লিডার সিফাত শিকদার তার পথ রোধ করে। এ সময় তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হলে রাইসা রাজি না হওয়ায় সিফাত শিকদার ক্ষিপ্ত হয়ে তার গায়ে আগুন দিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জানান, কিশোরী রাইসা আক্তারের হত্যায় জড়িতরা আগে থেকেই কিশোর গ্যাং চালায় ও মাদকের ব্যবসা করে।
নিহত রাইসার পিতা নজরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, আমি আমার মেয়েকে হত্যার সঠিক বিচার চাই। এই ঘটনায় সমগ্র এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং স্থানীয়রা দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
