ঈদে কারাগারে ৮০ হাজার বন্দির জন্য বিশেষ আয়োজন: নামাজ, খাবার, সাক্ষাৎ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
সারা দেশের কারাগারগুলোতে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করবেন প্রায় ৮০ হাজার বন্দি। কারা অধিদফতর এবারের ঈদে কারাবন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ খাবার, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেছে। এই উদ্যোগ বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি এবং তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষ খাবারের মেন্যু ও ধর্মীয় আয়োজন
বুধবার (১৮ মার্চ) কারা অধিদফতর জানিয়েছে, ঈদের দিন কারাগারে আটক বন্দিদের সকাল, দুপুর ও রাতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। নির্ধারিত মেন্যু অনুযায়ী ঈদের দিন সকালে পায়েস বা সেমাই এবং মুড়ি পরিবেশন করা হবে। দুপুরে সাদা ভাত, গরুর মাংস (ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস), মুরগির রোস্ট, আলুর দম ও রুই মাছ দেওয়া হবে। এ ছাড়া পান ও সুপারিও সরবরাহ করা হবে।
এদিকে, ঈদের দিন সকালে সব কারাগারে বন্দিদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই ধর্মীয় আয়োজন বন্দিদের ঈদের আনন্দে অংশগ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ফোনালাপের সুযোগ
ঈদের তিনদিন বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। পাবেন স্বজনদের আনা খাবারও। এছাড়া স্বজনদের সঙ্গে ফ্রিতে তিন মিনিট করে ফোনে কথা বলার সুযোগও পাবেন বন্দিরা। এই ব্যবস্থা বন্দিদের পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সাংস্কৃতিক বিনোদনের আয়োজন
ঈদকে কেন্দ্র করে বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টিতে থাকছে সাংস্কৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থাও। কারা অধিদফতর বন্দিদের মনোরঞ্জন ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ঈদের আনন্দ কারাবন্দিদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে প্রতিবারের মতো এবারও বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব কারাগারে বন্দিদের এ বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ঈদের দিন সকালে সব কারাগারে বন্দিদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের তিনদিন বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। পাবেন স্বজনদের আনা খাবারও। এছাড়া স্বজনদের সঙ্গে ফ্রিতে তিন মিনিট করে ফোনে কথা বলার সুযোগও পাবেন বন্দিরা। ঈদকে কেন্দ্র করে বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টিতে থাকছে সাংস্কৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থাও।’’
এই বিশেষ আয়োজন কারাবন্দিদের মানবিক অধিকার ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করে। এটি একটি উদ্যোগ যা বন্দিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
