কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তীব্র নিন্দা ও জরুরি পদক্ষেপ দাবি
কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ: এমজেএফের জরুরি পদক্ষেপ দাবি

কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) কুষ্টিয়ায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীর ধর্ষণের খবরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছে। সংস্থাটি ১৮ মার্চ এক বিবৃতিতে এই দাবি জানায়।

শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (এএসকে) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ৭১টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন মেয়ে ও দুই জন ছেলের ধর্ষণ এবং ১৪টি মেয়েদের ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে এএসকে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ১,০২৪টি ঘটনা রেকর্ড করেছিল।

এমজেএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "এই ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই ঘটেছে ব্যক্তিগত পরিবেশ, জনসমাগমস্থল এবং মাদ্রাসার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।"

উচ্চ আদালতের রুলিং বাস্তবায়নের আহ্বান

সংস্থাটি কর্তৃপক্ষের কাছে এই মামলাটি অত্যন্ত জরুরিভাবে বিবেচনা করার এবং সংসদে যৌন হয়রানি আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ আদালতের রুলিং অনুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেছেন, "ভয় ও গোপনীয়তার সংস্কৃতির কারণে মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন সহিংসতার ঘটনা খুব কমই রিপোর্ট করা হয়, যদি না আঘাত গুরুতর বা প্রাণঘাতী হয়।" তিনি যোগ করেন, অপরাধীরা প্রায়শই প্রতিষ্ঠানের পিছনে লুকিয়ে থাকে যা তাদের রক্ষা করে, ফলে শিশুরা মুখ খুলতে পারে না।

ভয়াবহ ঘটনা ও গ্রেপ্তার

ভেড়ামারা উপজেলার শিশু বেঁচে থাকা ব্যক্তি এখন জীবন-মরণ সংগ্রাম করছে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে, যেখানে শিশুটি আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল।

শুধু গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়

এমজেএফ জোর দিয়ে বলেছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই ভবিষ্যতে নৃশংসতা রোধ করা যাবে না। সংস্থাটি আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, নিরপেক্ষ তদন্ত, সময়মতো পদক্ষেপ এবং বাবা-মা ও অভিভাবকদের মধ্যে শিশুদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

শেষে বলা হয়েছে, শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব। নাগরিক সমাজ, নারী অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের সাথে সহযোগিতা করে শিশুদের নিরাপদ ও মুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠতে দিতে প্রস্তুত।