শহিদুল ইসলামের মৃত্যু: সন্তানদের বাবা ছাড়া প্রথম ঈদ, মামলায় অগ্রগতি নেই
শহিদুল ইসলামের মৃত্যু: সন্তানদের বাবা ছাড়া প্রথম ঈদ

শহিদুল ইসলামের মৃত্যু: সন্তানদের বাবা ছাড়া প্রথম ঈদ, মামলায় অগ্রগতি নেই

কৃষিবিদ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের দুই ছেলে সাইফান আবদুল্লাহ ও শাদমান সাফিন এবারই প্রথম বাবাকে ছাড়া ঈদ উদযাপন করছে। ১০ বছর বয়সী সাইফান বাবার আকস্মিক মৃত্যু বুঝতে পারলেও মানতে পারছে না, বারবার প্রশ্ন করে, ‘বাবা কেন ফাঁকি দিল?’ অন্যদিকে, মাত্র ৩ বছর বয়সী শাদমান মুঠোফোনে বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়, কিন্তু তাদের এই আকাঙ্ক্ষা আর পূরণ হবে না।

নিখোঁজ থেকে মৃত্যুর রহস্য

শহিদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম গবেষণাকেন্দ্রের সাবেক রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার গুলশান থেকে বরিশাল ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন। ২৩ জানুয়ারি মাদারীপুরের শিবচর থানার পুলিশ অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে, যা পরে শহিদুল ইসলামের (৪২) বলে শনাক্ত হয়। তাঁর স্ত্রী শাম্মী আকতার বলেন, ‘কোনো অসুখ বা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে মনটাকে বোঝাতে পারতাম। ভালো মানুষ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হলেন, তারপর লাশ পেলাম।’

মামলার তদন্তে ধীরগতি

মাদারীপুরের শিবচর থানায় গত ২৭ জানুয়ারি শহিদুল ইসলামের বাবা মতিউর রহমান অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। তবে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের মতে, এখন পর্যন্ত এ হত্যা মামলায় বলার মতো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও ভিসেরা প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। শাম্মী আকতার অভিযোগ করেন, পুলিশের দেরিতে তৎপরতা ও তথ্য অস্বচ্ছতা তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করছে।

পরিবারের শূন্যতা ও সংগ্রাম

শহিদুল ইসলাম ও শাম্মী আকতারের বিবাহিত জীবন ছিল ১১ বছরের। শহিদুলের মৃত্যুর পর শাম্মী দুই ছেলেকে নিয়ে পটুয়াখালীর শ্বশুরবাড়িতে থাকছেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট দুই বাচ্চা নিয়ে আমাকে এখন অজানা আশঙ্কায় দিন পার করতে হচ্ছে। এখন শুধু জানতে চাই—আমার স্বামীকে কে, কেন, কীভাবে মারল?’ পরিবার ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু মামলার অগ্রগতি না থাকায় তাদের দুঃখ আরও গভীর হচ্ছে।