ইরানে মোসাদের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরান এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দেশটির বিচার বিভাগ এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা ইরানের কঠোর বিচার ব্যবস্থা এবং মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।
খোরোশ কায়ভানির বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা মিজানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তির নাম খোরোশ কায়ভানি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি মোসাদের কাছে ইরানের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি এবং গোপন তথ্য পাচার করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইরানে মৃত্যুদণ্ডের উচ্চ হার
বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, ইরান সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে রুদ্ধদ্বার শুনানির মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এসব বিচারে অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ পান না, যা ন্যায়বিচারের নীতির লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হয়।
মানবাধিকার গোষ্ঠীর সতর্কতা
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে বলেছে, গত জানুয়ারিতে দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পর থেকে ইরান ব্যাপকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু করতে পারে। এর আগে ওই বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ব্যাপক সহিংসতা চালায়, যাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এই পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আশির দশকে ইরাকের সঙ্গে আট বছরের যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইরানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিলো। এটি ইরানের বিচার ব্যবস্থার কঠোরতা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারের একটি দীর্ঘ ইতিহাসকে তুলে ধরে। বর্তমান ঘটনাটি এই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সূত্র: এপি
