বরিশালে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে আগুনে হত্যার অভিযোগ

বরিশালে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। নিহত রাইসা আক্তার দিনমজুর নজরুল হাওলাদারের মেয়ে। অভিযুক্ত কিশোরও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ ও বাবার বক্তব্য

রাইসার বাবা নজরুল হাওলাদার জানান, রবিবার (১৫ মার্চ) তার মেয়ে বাড়ির বাইরে গেলে অভিযুক্ত ছেলেটি তাকে প্রেমের প্রস্তাব বা কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি তিনি গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে মেয়ের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, "রাইসা চিৎকার দিলে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। কিন্তু অভিযুক্ত ছেলেটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।" নজরুল হাওলাদার আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ছেলেটি তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল, কিন্তু মেয়ে তা বাড়িতে জানায়নি।

চিকিৎসা ও মৃত্যু

আগুনে দগ্ধ রাইসাকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ১৫ মার্চ রাতেই তাকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করা তসলিম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন এবং রাইসা ও অভিযুক্ত ছেলেটির মধ্যে ঝগড়া চলতে দেখেন। "মেয়েটি চিৎকার করলে আমি আগুন দেখতে পাই এবং দ্রুত চিৎকার দিয়ে আগুন নেভাতে যাই। এ সময় দৌড়ে ওই ছেলেকে সটকে পড়তে দেখি। আমি নিশ্চিত ঘটনাটি ওই ছেলেই ঘটিয়েছে," বলেন তিনি।

অভিযুক্তের পরিবারের প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্তের বাবা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেন, ঘটনার সময় তার ছেলে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। "কে বা কারা রাইসার শরীরে আগুন দিয়েছে, ঘটনার দায়ভার চাপানো হচ্ছে আমার ছেলের ওপর। বিষয়টি ডাহা মিথ্যা," বলেন তিনি।

পুলিশের পদক্ষেপ

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম জানান, তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান এবং সত্যতা নিশ্চিত হন। সোমবার পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ না হলেও মঙ্গলবার রাইসার বাবা বাদী হয়ে মামলা করার কথা রয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই ঘটনা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা সোচ্চার হচ্ছেন। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে।