ভাটারায় কলেজছাত্রীর দলবদ্ধ ধর্ষণ: প্রেমিক ও বন্ধুর ভিডিও হুমকি, দুই কিশোর আটক
ভাটারায় কলেজছাত্রীর ধর্ষণ: দুই কিশোর আটক, ভিডিও হুমকি

ভাটারায় কলেজছাত্রীর দলবদ্ধ ধর্ষণ: প্রেমিক ও বন্ধুর ভিডিও হুমকি, দুই কিশোর আটক

রাজধানীর ভাটারা থানার নয়ানগর এলাকায় এক কলেজছাত্রীর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সী এই কিশোরী তার প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে এই নির্মমতার শিকার হয়েছেন। ঘটনাটির ভিডিও ধারণেরও অভিযোগ উঠেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখানো হয়েছিল। পুলিশ মামলা হওয়ার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই জড়িত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ভাটারা থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্রী ওই কিশোরী ৮ মার্চ সকাল ১১টার দিকে তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে বের হন। একপর্যায়ে তারা নয়ানগরের ফিলিপ ভিলার দোতলার একটি ফ্ল্যাটে যায়। সেখানে প্রেমিক বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এরপর তিনি তার পার্স থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক জানান, প্রেমিক চলে যাওয়ার পর তার এক বন্ধু ওই ঘরে প্রবেশ করে। সে কিশোরীকে জানায় যে ধর্ষণের পুরো ঘটনা সে ভিডিও করে রেখেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সে–ও কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এই দ্বিতীয় ধর্ষণের পর কিশোরী বাড়ি ফিরে গেলে তার স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন।

মামলা ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পর কিশোরীর পরিবার করণীয় নিয়ে আলোচনা করে শনিবার মধ্যরাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে। ওসি ইমাউল হক বলেন, মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ভাটারার সাইদনগরের বি–ব্লক এলাকা থেকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত দুই কিশোরকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, সোমবার দুই কিশোরকে আদালতে হাজির করা হবে। একই সঙ্গে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হবে। সুবিধাজনক সময়ে আদালতে নিয়ে তার জবানবন্দিও নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীর পারিবারিক অবস্থা

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এই ঘটনায় পরিবারটি গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাইছেন।

এই ঘটনা রাজধানীতে নারী নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা দেখালেও, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।