রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দিদের মানবাধিকার লঙ্ঘন: রেহমান সোবহানের তীব্র সমালোচনা
দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারাগারে ধুঁকছে উল্লেখ করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন, দেশের বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা। তিনি বলেন, যাদের আইনের শাসন রক্ষার বিষয়ে আরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া উচিত ছিল, তাদের এই অবস্থার উত্তরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রত্যাশা
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান এই কথা বলেছেন। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম নামের একটি সংগঠন। সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে এই অবস্থার উত্তরণ প্রত্যাশা করেন রেহমান সোবহান।
যেসব ব্যক্তি বেআইনিভাবে কারা হেফাজতে আছেন, তাদের সবার মানবাধিকার পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসনের কার্যকারিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য ‘লিটমাস টেস্ট’ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, দুর্ভাগ্যবশত ইতিহাস সাক্ষী যে পূর্ববর্তী সরকারগুলো বিরোধীদের অধিকার লঙ্ঘন করে এসেছে।
বিরোধীদের ক্ষমতায় আসার পরও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চক্র
আবার যখন সেই বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে, তখন তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের বিরোধীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনেই সময় ব্যয় করে। সংসদ সদস্যদের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ কী হবে, সেই প্রশ্ন তুলে রেহমান সোবহান বলেন, ‘যারা নিজেদের মানবাধিকারের প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরছেন, তারা কত দূর নিশ্চিত করবেন যে দেশে আইনের শাসন বজায় থাকবে? আমাদের সত্যিই একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে এবং এটি মানবাধিকার রক্ষার পরিবর্তে লঙ্ঘনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না?’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস হবে, এমন আশাবাদ জানিয়ে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘কমিশন কতটা কার্যকরভাবে কাজ করবে, তা একান্তই নির্ভর করবে পূর্ববর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মতো সালাহউদ্দিন আহমদও এটিকে উপেক্ষা করেন কি না তার ওপর।’ তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
এই সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন এবং নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। রেহমান সোবহানের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
