নেত্রকোনায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার একটি গ্রামে শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির মা খাবার খেতে দিয়ে বাড়ির সামনের মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়েছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ঘরে ফিরে এসে তিনি গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আড়ার সঙ্গে মেয়েটির বস্ত্রহীন দেহ ঝুলতে দেখেন।
প্রতিবেশীদের সহায়তায় উদ্ধার ও মৃত্যু নিশ্চিত
মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা দৌড়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুই ভাইবোনের মধ্যে সে বড় ছিল। তার বাবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান এবং ঘটনার দিন সকালে কাজে বের হয়েছিলেন।
পুলিশের তদন্ত ও আটক
নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বলেন, 'বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণ করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। যারা এই জঘন্য কাজ করেছে, আশা করি দ্রুত তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।' পুলিশ সুপার আরও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল সরকারসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনা তদন্তে কাজ করছে।
ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে এবং দুজনের বয়স ২২ বছর। পুলিশ আশা করছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
মায়ের বেদনাদায়ক বর্ণনা
শিশুটির মা বলেন, 'আমার মেয়েরে ভাত বাইড়া দিয়া ছাগল আনতাম গেছিলাম। ঘরে কেউ ছিল না। যাওনের সময় পাশে দোকানের কাছে তিনজন ছেরারে দেইখ্যা গেয়েছিলাম। পরে ফিইরা আওনের সময় তারারে আর পাই নাই। আমি ঘরে গিয়া মানুষসহ আমার মাইয়াডারে ধর্না থাইক্কা নামাই। আমার ছোট্ট শিশুটার সাথে যারা এই কাম করছে, আমি তারার ফাঁসি চাই।' তাঁর এই বক্তব্য স্থানীয় সম্প্রদায়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি বারহাট্টা উপজেলা এবং নেত্রকোনা জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা শিশুটির ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন। পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।



