কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: মানববন্ধনে তীব্র প্রতিবাদ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের নিলামসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা শহরের আখড়া বাজার চত্বরে ‘কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ’–এর ব্যানারে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
হামলার ঘটনা ও প্রতিক্রিয়া
গতকাল বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর পাগলা মসজিদের নিলামঘরের সামনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আলম (ফয়সাল) ও গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূঁইয়া (পিংকু)-এর ওপর হামলা চালানো হয়। আহত সাংবাদিকদের মসজিদের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, "এটি শুধু সাংবাদিকদের ওপর হামলা নয়, এটি স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত।" হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
এই ঘটনায় ফয়জুল ইসলাম গতকাল রাতে বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন আসরের নামাজের পর পাগলা মসজিদের দানকৃত বিভিন্ন সামগ্রী নিলামে তোলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কম দামে এসব সামগ্রী কিনে নেন বলে অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান চারজন সাংবাদিক। এ সময় ওই সিন্ডিকেটের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞা জানান, হামলার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত জীবন ও মনা নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সাংবাদিক সমাজের দাবি
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকেরা জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তাঁরা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এই ঘটনা কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।



