নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের
সারাদেশে অব্যাহতভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সংগঠনটি নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়। ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য শামীম ইমাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সেনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ ও শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ নেতা।
শ্রমিকদের বোনাস-বেতন পরিশোধের আহ্বান
সভার অপর এক প্রস্তাবে ২০ রোজার মধ্যে গার্মেন্টসসহ সব কারখানায় শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ বোনাসসহ বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সরকার ও মালিক পক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।
আলু চাষিদের দুর্ভোগ ও রক্ষার দাবি
এছাড়াও আলুর মৌসুমে বাজারে দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে কম হওয়ায় চাষিদের দুর্ভোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অবিলম্বে আলু চাষিদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে লাভজনক দামে সরকারি উদ্যোগে আলু ক্রয় করে সামাজিক সুরক্ষা খাতে নিত্যপণ্য বরাদ্দের সঙ্গে ও টিসিবির পণ্য বিক্রির তালিকায় আলু যুক্ত করার কথা বলেন যুক্তফ্রন্টের নেতারা। পাশাপাশি বিদেশে আলু রফতানির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, "নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে শ্রমিক ও কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।" তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে দেশের উন্নয়ন টেকসই হবে না।
সভায় উপস্থিত নেতারা সমাজের সকল স্তরে নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে এসব ইস্যুতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
